অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম- সহজ গাইড ২০২৬

 

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম সম্পর্কে জানতে যারা অনলাইনে খোঁজাখুঁজি করছেন তাদের জন্য আমার আজকের এই আর্টিকেল। আগের দিনে ট্রেনের টিকেট কাটতে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো। কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল যুগে এসে ট্রেনের টিকেট কাটা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে।

অনলাইনে-ট্রেনের-টিকিট-কাটার-নিয়ম-সহজ-গাইড-২০২৬

 এখন ঘরে বসে হাতে থাকা মোবাইল ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের এর সাহায্যে ওয়েবসাইট অথবা অ্যাপস এর মাধ্যমে খুব সহজে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটা সম্ভব হচ্ছে। যারা এখনো অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য আমার আজকের এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা থাকছে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম-২০২৬

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম সম্পর্কে যারা কিছু জানেন না তারা মনোযোগ সহকারে আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে বিস্তারিত জানতে পারবেন বলে আশা করছি। যারা অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটা নিয়ম সম্পর্কে কোনদিন শোনেননি তাদের কাছে এটা আশ্চর্যজনক বলে মনে হবে কিন্তু বর্তমানে এই ডিজিটাল যুগে এসে সব কিছুই সম্ভব। 

ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে অনেক বিভ্রান্তি ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অনেক সময় কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট সংগ্রহ করতে হয়। আবার কিছু কিছু সময় টিকেট সংগ্রহ না করতে পেরে খালি হাতেও ফিরে আসতে হয়। আবার সংগ্রহ করা গেলেও অনেক ভোগান্তির পরে সম্ভব হয়। এই ভোগান্তির অবসানের জন্যই অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার পদ্ধতি চালু হয়েছে। 

শুধু আপনাকে জানতে হবে অনলাইনে টিকিট কাটার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে। তাহলে আপনি ঘরে বসে অনলাইনে কয়েকদিন আগে ট্রেনের টিকেট খুব সহজে কাটতে পারবেন। এতে সময়ের যেমন সাশ্রয় হবে তেমনি কোন ভোগান্তিতে পড়তে হবে না। অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কয়েকটি মাধ্যমে কাটতে পারবেন। মাধ্যমগুলো হল-

  • ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কাটতে পারবেন।
  • রেল সেবা অ্যাপস এর মাধ্যমে ট্রেনের টিকেট কাটতে পারবেন।
  • বিকাশ অ্যাপস এর মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট কাটতে পারবেন।

অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার জন্য যা যা প্রয়োজন

অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম সম্পর্কে জানতে আপনাকে প্রথমে জানতে হবে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার জন্য কি কি প্রয়োজন। আপনি যদি অনলাইনে থেকে ট্রেনের টিকেট কাটার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহে না রাখেন তাহলে সমস্যায় পড়বেন। তাই আগে থেকে যেসব জিনিস সংগ্রহ করে রাখা প্রয়োজনীয় সেগুলো হল-

  • একটি স্মার্ট ফোন/কম্পিউটার/ ল্যাপটপ
  • ইন্টারনেট সংযোগ
  • NID কার্ড বা জন্ম নিবন্ধন কার্ড
  • একটি মোবাইল নাম্বার
  • একটি জিমেইল এড্রেস
  • বিকাশ/ নগদ/ রকেট /ডেবিট অথবা ক্রেডিট কার্ড

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম

অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম গুলোর মধ্যে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কাটা একটি নিয়ম। কিভাবে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটা যায় তা এখন ধাপে ধাপে আলোচনা করার চেষ্টা করব। আপনারা যদি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটতে চান তাহলে আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন। মোবাইল অথবা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ দিয়ে ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কাটতে পারবেন। এর জন্য প্রথমে যেকোনো ব্রাউজারে গিয়ে eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর সেখানে ডানপাশে Register বাটনে ক্লিক করে Register করে নিতে হবে।


রেজিস্টার এর জন্য রেজিস্টার এর বাটনে ক্লিক করলে একটি নতুন ফর্ম চলে আসবে যেখানে আপনার নাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার, ইমেইল এড্রেস প্রভৃতি আপনার  NID অথবা জন্ম নিবন্ধন কার্ডের তথ্য অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। সকল তথ্য পূরণ করার পর SIGN UP বাটনে ক্লিক করতে হবে।


এরপর আপনার দেওয়া মোবাইল নাম্বার অথবা জিমেইল এড্রেসে ছয় ডিজিটের OTP কোড আসবে। সেই কোড দিয়ে ভেরিফিকেশন করে নিয়ে কন্টিনিউ বাটনে ক্লিক করুন। এরপর ট্রেনের টিকেট কাটার জন্য eticket.railway.gov.bd লগইনের জন্য আপনার মোবাইল নাম্বার অথবা gmail ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে নিতে হবে।


এরপর আপনার যাত্রা শুরুর স্টেশন, গন্তব্যস্থল ও টিকিটের শ্রেণী নির্বাচনের জন্য Find Ticket এ ক্লিক করুন। এ পর্যায়ে আপনার পছন্দমত ট্রেন নির্বাচন করে View Seat ক্লিক করুন। এখন আপনার পছন্দমত সিট নির্বাচন করে Continue Purchaseবাটনে ক্লিক করুন।এখানে উল্লেখ্য যে একজন যাত্রী একসাথে সর্বোচ্চ চারটি টিকেট ক্রয় করতে পারবেন। 

এ পর্যায়ে আপনার টিকেটের মূল্য ভ্যাট ও সার্ভিসসহ জানিয়ে একটি ফরম আসবে। এখানে সবকিছু ঠিক থাকলে ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য আপনার বিকাশ/ নগদ/ রকেট/ ক্রেডিট অথবা ডেবিট কার্ড নির্বাচন করে Confirm Purchase বাটনে ক্লিক করতে হবে। পেমেন্ট সফল হওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে আপনি কনফার্ম মেসেজের মাধ্যমে আপনার জিমেইলে ট্রেনের টিকিট পেয়ে যাবেন।

 আরও পড়ুনঃ AI দিয়ে কিভাবে অনলাইনে টাকা ইনকাম করা যায়- ১০টি উপায় সম্পর্কে জানুন

এরপর টিকিটটা আপনি পিডিএফ আকারে মোবাইলে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। ট্রেনের ভেতর টিকিট চেক করার সময় আপনার মোবাইলে ডাউনলোড কৃত টিকিটটা দেখাতে হবে। টিকেটটি দেখাতে না পারলে আপনাকে আইনত জরিমানা প্রদান করতে হবে এ ব্যাপারে অবশ্য আপনাকে সাবধান থাকতে হবে।

রেল সেবা অ্যাপস এর মাধ্যমে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম

অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার আরেকটি সহজ নিয়ম হচ্ছে রেল সেবা অ্যাপস এর মাধ্যমে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটা। রেল সেবা অ্যাপস এর মাধ্যমে ট্রেনের টিকেট করার জন্য প্রথমে আপনাকে গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে রেল সেবা অ্যাপসটি ডাউনলোড করে নিতে হবে। ডাউনলোড করলে অটোমেটিক অ্যাপসটি ইন্সটল হয়ে যাবে। এরপর আপনাকে অ্যাপসটিতে ঢুকে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে। 

এখানেও পূর্বের দেখানো ওয়েবসাইটের নিয়ম অনুযায়ী আপনার নাম, ঠিকানা,মোবাইল নম্বর,জিমেইল এড্রেস, এনআইডি নাম্বার প্রভৃতি দিয়ে ফরমটি পূরণ করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। ফর্মটির তথ্যগুলো অবশ্যই এনআইডি কার্ডের অথবা জন্ম নিবন্ধন কার্ডের তথ্য অনুযায়ী হতে হবে তা না হলে ভেরিফিকেশন হবে না। 

এ পর্যায়ে রেজিস্ট্রেশন কমপ্লিট হয়ে গেলে অ্যাপসটি লগইন করার জন্য আপনার মোবাইল নাম্বার অথবা gmail address ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে নিতে হবে। এরপর আপনার শুরু স্টেশন, গন্তব্যস্থল,টিকিটের শ্রেণী,কোন টিকেট ফাঁকা আছে ইত্যাদি অপশন নির্বাচন করে আপনার টিকিটটি ক্রয় করতে হবে। এ পর্যায়ে আপনার টিকিটের ভাড়া পরিষদের জন্য আপনার বিকাশ নগদ রকেট ক্রেডিট অথবা ডেবিট কার্ড নির্বাচন করে কনফার্মপার্সেস বাটনে ক্লিক করতে হবে। 

টিকিটের মূল্য পরিষদের ৩০ এর মিনিটের মধ্যে আপনার জিমেইলে ট্রেনের টিকিট চলে আসবে। তারপর পিডিএফ আকারে আপনি ট্রেনের টিকিট মোবাইলে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। ট্রেনে যাত্রাকালে আপনাকে অবশ্যই টিকিট চেক করার সময় মোবাইলে ডাউনলোড কৃত টিকিটটি দেখাতে হবে।

বিকাশ এপস এর মাধ্যমে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম

বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপস এর মাধ্যমে ট্রেনের টিকেট কেটে bkash apps এর মাধ্যমে পেমেন্ট দেওয়ার পাশাপাশি এখন বিকাশ অ্যাপস নিজেই অনলাইনে টিকিট কাটার সুযোগ নিয়ে এসেছে। অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার জন্য বিকাশ অ্যাপসে প্রবেশ করে আপনাকে টিকিট অপশন খুঁজে নিয়ে সেখানে ক্লিক করে বাংলাদেশ রেলওয়ে ই- টিকেট সার্ভিসের প্রবেশ করতে হবে। বিকাশ অ্যাপস সাধারণত রেলওয়ের ই টিকেটিং সার্ভিসের সাথে সংযুক্ত থাকায় নতুন কোন তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। 

এ পর্যায়ে এখানে আপনার নাম ঠিকানা মোবাইল নাম্বার gmail address এনআইডি নাম্বার শুরু স্টেশন গন্তব্যস্থল টিকিটের শ্রেণী কোন টিকেট ফাঁকা আছে প্রভৃতি তথ্য নির্বাচন ও পূরণ করতে হবে। সবকিছু অপশন পূরণ করা শেষে আপনাকে টিকেটে পেমেন্ট প্রদান করতে হবে। পেমেন্টের জন্য পার্সেস অপশন এ ক্লিক করলে আপনার বিকাশ একাউন্ট থেকে ট্রেনের টিকেটের ভাড়া বাবদ পেমেন্ট কেটে নেবে।

পেমেন্ট দেবার ৩০ মিনিটের মধ্যে আপনার জিমেইলে ট্রেনের টিকেট প্রদান করা হবে। পিডিএফ ফাইল এর মাধ্যমে মোবাইলে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। তারপর ট্রেনে আপনাকে সেই ডাউনলোড কৃত টিকিটটি দেখাতে হবে। অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটা যে কয়েকটি নিয়ম দেখানো হলো তা প্রায় সবগুলো একই নিয়মে করতে হয়। আপনি ইচ্ছে করলে এর যে কোন একটি অপশন বেছে নিয়ে খুব সহজে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কেটে নিতে পারবেন।

অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার সুবিধা

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার অনেক সুবিধা রয়েছে। আপনি যদি জানেন যে অনলাইনে টিকিট এত সুবিধা রয়েছে তাহলে আর কখনো লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে যাবেন না। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার সুবিধা গুলো সম্পর্কে।

  • অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটলে সময়ের অপচয় হয় না। কারণ এটা ঘরে বসেই অল্প সময়ে করা যায়। আর কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কাটতে লম্বা লাইনে দাড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হয় যাতে অনেক বেশি সময়ের অপচয় হয়।
  • অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটতে যাতায়াত খরচ হয় না। অনেক সময় বাসা থেকে যদি স্টেশন অনেক দূরে হয় তাহলে ট্রেনের টিকেট কাটতে যেতে আসতে অনেকটা খরচ হয়ে যায়। আর অনলাইনে ট্রেনের টিকিট যেহেতু বাসা থেকেই সংগ্রহ করা যায় তাই যাতায়াত খরচ হয়না।
  • ২৪ ঘন্টার মধ্যে যেকোনো সময় অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটা যায়।
  • ভ্রমণের অনেক আগে টিকেট সংগ্রহ করা যায়।
  • ট্রেনের টিকিট মোবাইলের সংরক্ষণ করা যায়। আগের সময় ট্রেনের টিকেট কাগজের ছিল যা হারিয়ে বা নষ্ট হওয়ার ভয় ছিল। অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার ফলে এই ভয়টি আর থাকেনা।
  • অনলাইনে টিকিট কাটতে লাইনে দাঁড়ানোর কষ্ট উপভোগ করতে হয় না।
  • দেশ বা দেশের বাইরে যে কোন জায়গা থেকে ট্রেনের টিকিট বুকিং করা যায়।
  • অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার আরেকটি সুবিধা হচ্ছে এতে পছন্দমত সিট নির্বাচন করা যায়।
  • অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটতে আরেকটি সুবিধা হচ্ছে নিরাপদ পেমেন্ট সিস্টেম। এখানে বিকাশ/ রকেট/ নগদ ডেবিট অথবা ক্রেডিট কার্ড এর মাধ্যমে পেমেন্ট প্রদান করা হয় যা অনেকটা নিরাপদ।
  • অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার ফলে ভ্রমণ পরিকল্পনা অনেক সহজ হয়।

অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার অসুবিধা

সব জিনিসেরই যেমন সুবিধা থাকে তেমনি কিছুই এর অসুবিধা থাকে। অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার ক্ষেত্রেও যেমন সুবিধা রয়েছে তেমনি এর কিছু অসুবিধা রয়েছে। এখন আলোচনা করব অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার অসুবিধা গুলো নিয়ে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার অসুবিধা সম্পর্কে।

  • অনেক সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে যেমন ঈদের ছুটি টিকিট ছাড়ার সময় প্রকৃত কারণে সার্ভার ডাউন থাকে তখন টিকেট কাটার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায় না।
  • অনলাইনে টিকিট কাটার জন্য স্মার্টফোন ইন্টারনেট পেমেন্ট প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় যা অনভিজ্ঞ লোকের পক্ষে কষ্টকর।
  • অনেক সময় টাকা কেটে নিলেও সঙ্গে সঙ্গে টিকিট পাওয়া যায় না যা যাত্রীর জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে পড়ে।
  • অনলাইনে ট্রেনের কাটা টিকেট বাতিল করলে নির্দিষ্ট হারে চার্জ কাটে ফলে পুরো টাকা ফেরত পাওয়া যায় না।
  • এনআইডি কার্ড ও টিকিটের নামের মধ্যে যদি ভুল থেকে থাকে তাহলে যাত্রাকালে সমস্যা হয়ে থাকে।
  • এক আইডি থেকে সীমিত সংখ্যক টিকিট পাওয়া যায় যা বড় পরিবারের জন্য একসাথে টিকিট কাটতে অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অনলাইনে কাটা টিকেট বাতিল করার নিয়ম

যদি আপনি অনলাইনে টিকিট কাটার পর টিকিটের বাতিল করতে চান তাহলে তা খুব সহজে বাতিল করতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের পর যদি বাতিল করেন তাহলে কিছু চার্জ কাটবে। অনলাইনে কাটা টিকেট বাতিল করার জন্য ওয়েবসাইটটি লগইন করতে হবে। এরপর মাই টিকেট অপশনে গিয়ে সিলেক্ট করে Cancel করতে হবে। অনলাইনে কাটা টিকেট নির্দিষ্ট সময়ের পর বাতিল করলে কিছু চার্জ কেটে নেওয়ার পর .৩-৭ দিন এর মধ্যে বাকি টাকা ফেরত দিয়ে দিবে।

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা করার নিয়ম 

ভ্রমণের সময়ে নিয়ম ও সতর্কতা

অনলাইনে টিকেট কাটার পর ভ্রমণের সময় কিছু নিয়ম ও সতর্কতা অনুসরণ করতে হয়। যা আপনার যাত্রা কে অনেক সহজ ও নিরাপদ করে দিবে। ভ্রমণের সময় যেসব নিয়ম ও সতর্কতা রয়েছে সেগুলো হল-

  • অনলাইনে কাটা ট্রেনের টিকেট মোবাইলে ডাউনলোড করে অথবা স্ক্রিনশট দিয়ে রাখতে হবে। যাতে টিকিট চেক করার সময় অবশ্যই দেখাতে পারেন।
  • ভ্রমণ কালে জাতীয় পরিচয় পত্র অবশ্য সঙ্গে রাখতে হবে।
  • টিকেটে উল্লেখিত যাত্রী ট্রেনে ভ্রমণ করতে হবে।
  • টিকেট অন্য কাউকে ট্রান্সফার করা যাবে না।

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার গুরুত্বপূর্ণ টিপস

অনলাইনে থেকে ট্রেনে টিকেট কাটার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস রয়েছে যা আপনাদের কাছে শেয়ার করছি। টিপসগুলো হলোঃ

  • ঈদ ও বিশেষ ছুটির ক্ষেত্রে আগেভাগে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার চেষ্টা করতে হবে।
  • একাধিক ডিভাইস থেকে একসাথে ওয়েবসাইট লগইন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • পেমেন্টের আগে সব তথ্য আবার চেক করে তারপর পেমেন্ট করতে হবে।
  • গুরুত্বপূর্ণ যাত্রায় টিকিটের ব্যাকআপ সংগ্রহ করে রাখতে হবে।
  • টাকা কেটে গেছে কিন্তু টিকেট আসেনি সে ক্ষেত্রে কিছু সময় অপেক্ষা করার পর সাপোর্টে যোগাযোগ করতে হবে।
  • ওয়েবসাইট স্লো সেক্ষেত্রে গভীর রাতে বা ভোরে চেষ্টা করে দেখতে পারো।
  • লগইনের সমস্যা হলে Forgot Password অপশন ব্যবহার কর।

FAQ: বহু জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কোথায় থেকে কাটা হয়?

উত্তরঃ অনলাইনে ট্রেনের টিকেট বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd ও রেল সেবা অ্যাপস এবং বিকাশ অ্যাপস এর মাধ্যমে কাটা যায়।

প্রশ্নঃ অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটতে কি NID কার্ডের প্রয়োজন?

উত্তরঃ হ্যাঁ বর্তমানে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটতে NID অথবা জন্ম নিবন্ধন কার্ডের নাম্বার প্রয়োজন হয়।

প্রশ্নঃ অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটতে কিভাবে পেমেন্ট দেওয়া হয়?

উত্তরঃ অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটতে পেমেন্ট বিকাশ/ নগদ/ রকেট/ ডেবিট অথবা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।

প্রশ্নঃ অনলাইনে টিকিট কাটলে কতক্ষনের মধ্য টিকিট পাওয়া যায়?

উত্তরঃ অনলাইনে টিকিট কাটার প্রক্রিয়া ও পেমেন্ট প্রক্রিয়া শেষ করার ৩০ মিনিটের মধ্যে ইমেইলে টিকিট প্রদান করা হয়।

প্রশ্নঃ অনলাইনে টিকিট কিভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা যায়?

উত্তরঃ অনলাইনে টিকিট জিমেইলে পাঠানো হয় সেই টিকিট পিডিএফ আকারে মোবাইলে ডাউনলোড করে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা যায়।

প্রশ্নঃ অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটা কি নিরাপদ?

উত্তরঃ হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটা সম্পূর্ণ নিরাপদ।

শেষ কথাঃ অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম- সহজ গাইড ২০২৬

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম সম্পর্কে আজকের এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করছি আপনারা এই আর্টিকেল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে অনলাইনে টিকিট কাটার নিয়ম গুলো সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পাবেন এবং উপকৃত হবেন। অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটা আমাদের জীবনকে যে কতটা সুবিধা বয়ে নিয়ে এসেছে এবং 

আমাদের জীবন কে কতটা সহজ করে দিয়েছে তা কেবল আপনি অনলাইনে টিকিট কাটলেই বুঝতে পারবেন। আমার এই আর্টিকেল লেখাতে যদি কোন ভুল হয়ে থাকে তাহলে আপনারা সবাই ক্ষমা করবেন। সেই সাথে অন্যদের পড়ার জন্য আমারে আর্টিকেলটি আপনার কাছের মানুষগুলোর কাছে শেয়ার করে দিবেন। এতক্ষণ সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url