শীতের লোভনীয় কয়েকটি পিঠার সহজ রেসিপি

শীতের লোভনীয় কয়েকটি পিঠার সহজ রেসিপি সম্পর্কে আজকের এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব। আমরা বাঙালি। আর বাঙালি মানে শীতকালে প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে পিঠাপুলির উৎসবে মেতে ওঠে সবাই। বাঙ্গালীরা সারা বছরই পিঠা খেতে পছন্দ করে।

শীতের-লোভনীয়-কয়েকটি-পিঠার-সহজ-রেসিপি

কিন্তু শীতকালে পিঠা খাবার আলাদা মজা। এ সময় খেজুরের গুড় দিয়ে পিঠা খাওয়ার এক অন্যরকম মজা ও আনন্দ। এই আর্টিকেলে শীতের লোভনীয় কয়েকটি পিঠার সহজ রেসিপি সম্পর্কে জানব। যেসব পিঠার উপকরণ সচরাচর আমাদের ঘরেই থেকে থাকে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ শীতের লোভনীয় কয়েকটি পিঠার সহজ রেসিপি

শীতের লোভনীয় কয়েকটি পিঠার সহজ রেসিপি

শীতের লোভনীয় কয়েকটি পিঠার সহজ রেসিপি সম্পর্কে এখন আলোচনা করব। শীতকালে আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করা হয়। হেমন্তের শেষ থেকে পুরো শীতকাল জুড়ে প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে পিঠাপুলির উৎসব হয়ে থাকে। গ্রাম বাংলার কিছু অতি পরিচিত কিন্তু মজাদার ও সুস্বাদু পিঠা রেসিপি নিয়ে আজকে আলোচনা করব। 

যদিও আগের দিনের সেই পিঠাপুলির উৎসব এখন অতটা দেখা যায় না বিশেষ করে শহর এলাকা গুলোতে তেমন একটা পরিলক্ষিত হয় না। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে এখনো আগের চেয়ে একটু কম হলেও ঘরে ঘরে সুস্বাদু বিভিন্ন রকম পিঠা তৈরি হয়ে থাকে। শীতে খেজুরের রস দিয়ে বিভিন্ন রকম পিঠার মজাই আলাদা। 

পিঠা তৈরীর প্রধান উপকরণ হলো চালের গুড়ো,কোরা নারকেল, খেজুরের গুড় ও দুধ। পিঠার ধরন অনুযায়ী উপকরণ গুলো আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। চলুন তাহলে এখন শীতের লোভনীয় কয়েকটি পিঠার সহজ রেসিপি নিয়ে আলোচনা করা যাক।

শীতের লোভনীয় ভাপা পিঠার সহজ রেসিপি

শীতের লোভনীয় কয়েকটি পিঠার সহজ রেসিপি এর মধ্যে ভাপা পিঠা বানানো সবচেয়ে সহজ। গ্রামবাংলার অতি পরিচিত একটি পিঠার নাম হচ্ছে ভাপা পিঠা। এ পিঠা বানানো যেমন সহজ তেমনি এর উপকরণগুলো সহজ প্রাপ্য। এটি খেতে অনেক সুস্বাদু একটি পিঠা। শীতের সকালে গরম গরম ভাপা পিঠা খেজুরের গুড় দিয়ে খেতে অনেক মজা। গ্রাম বাংলার প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে শীতের সকালে ভাপা পিঠা তৈরি হয়। 

ভাপা পিঠা বানানোর উপকরণঃ ভাপা পিঠা বানানোর জন্য যেসব উপকরণ লাগে তা হল চালের গুড়া, কোড়া নারকেল, খেজুরের বা আখের গুড়।

প্রস্তুত প্রণালীঃ প্রথমে চালের গুড়া পরিমাণ মতো লবণ ও পানি দিয়ে ঝরঝরা করে মেখে নিতে হবে। তারপর একটি চালুনির সাহায্যে চেলে নিতে হবে। তারপর চুলায় পানি দিয়ে ভাপা পিঠা বানানোর পাত্র বসিয়ে দিতে হবে। এরপর পানি দিয়ে যখন গরম বাষ্প বের হবে তখন ভাপা পিঠা বানানো শুরু করতে হবে। একটি ছোট পাত্রে কিছুটা চালের গুঁড়ো দিয়ে তারপর কোড়া নারকেল ও কিছুটা গুড় দিয়ে দিতে হবে। 

তারপর তার উপর আবার একটু চালের গুড়া দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এরপর পিঠা বানানোর পাত্রের উপর পাতলা কাপড় দিয়ে পিঠাটি ভাপের জন্য দিয়ে দিতে হবে। এভাবে ২-৩ মিনিট পরে গরম ভাপ পেয়ে তৈরি হয়ে যাবে গরম গরম ভাপা পিঠা।

চিতই পিঠার সহজ রেসিপি

শীতের লোভনীয় কয়েকটি পিঠার সহজ রেসিপি এর মধ্যে চিতই পিঠা আর একটি খুব পরিচিত ও সুস্বাদু একটি পিঠা। গ্রাম বাংলার প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরেই সকালের নাস্তায় ও বিকেলের নাস্তায় গরম গরম চিতই পিঠা তৈরি হয়। চিতই পিঠা দুই ভাবে বানানো যায়। 

একটা শুধু চালের গুঁড়ো ও লবণ দিয়ে বানানো হয় যেটা গুড় দিয়ে বিভিন্ন রকম ভর্তা দিয়ে আবার মাংসের তরকারি দিয়েও খাওয়া যায়। আরেকটা বানানো হয় চালের গুড়ো, ঝাল, লবণ তেল, বিভিন্ন মসলা ও ডিম দিয়ে। দুইভাবে গরম গরম চিতই পিঠা খেতে অনেক মজা।

চিতই পিঠার উপকরণঃ সাদা চিতই পিঠা বানানোর জন্য দরকার চালের গুঁড়ো, লবণ ও পরিমান মত হালকা গরম পানি। আর ঝাল চিতই পিঠা বানানোর জন্য যেসব উপকরণ লাগে তাহলো চালের গুঁড়ো কাঁচা মরিচ, হলুদ, পেঁয়াজ, ডিম, তেল, লবণ, আদা রসুন জিরা বাটা ও হালকা গরম পানি।

প্রস্তুত প্রণালীঃ সাদা চিতই পিঠা বানানোর জন্য প্রথমে চালের গুঁড়ো লবণ ও একটু পানি নিয়ে ভালো করে মেখে নিতে হবে যত ভালো মাখানো হবে তত পিঠা সুন্দর নরম ও ফুলকো হবে। তারপর আরো একটু পানি মিশিয়ে তরল মিশ্রণ তৈরি করতে হবে এবং মিশ্রণটি খুব বেশি ঘন বা খুব বেশি পাতলা হবে না। তারপর চিতই পিঠা বানানো পাত্রটি চুলায় বসিয়ে দিয়ে গরম হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। 

যখন পাত্রটি গরম হয়ে উঠবে তখন সেখানে পরিমাণ মতো চালের গুঁড়ো মিশ্রণটি একটি বড় চামচের মাধ্যমে দিতে হবে। তারপর ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ২-৩ মিনিট পর তৈরি হয়ে যাবে গরম গরম ভাপা পিঠা। ঝাল চিতই পিঠা বানানোর জন্য চালের গুড়া মিশ্রণের মধ্য ঝাল চিতই পিঠার সব উপকরণ মিশিয়ে নিয়ে উপরিউক্ত নিয়মে তৈরি করা যাবে।

আরও পড়ুনঃ সকালে খালি পেটে কি খেলে ওজন বাড়ে

শীতের লোভনীয় দুধ চিতই পিঠার রেসিপি

শীতের লোভনীয় পিঠার মধ্য সবচেয়ে সুস্বাদু ও লোভনীয় পিঠা হচ্ছে দুধ চিতই পিঠা। চিতই পিঠা বিভিন্নভাবে বানানো হয়। সবগুলো খেতে অনেক মজা। তবে সবচেয়ে সুস্বাদু হচ্ছে দুধ চিতই পিঠা। চিতই পিঠা যখন খেজুরের গুড় মিশ্রিত দুধে ভেজানো হয় তখন এর সাধ দ্বিগুণ হয়ে যায়। 

আবহমান কাল ধরে বাংলার ঘরে ঘরে এ পিঠা তৈরি হয়ে থাকে। এ পিঠা খেতে এতই মজা যে তা বলার অপেক্ষায় রাখেনা। চলুন তাহলে এখন জেনে নেওয়া যাক দুধ চিতই পিঠার উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালী সম্পর্কে।

দুধ চিতই পিঠার উপকরণঃ দুধ চিতই পিঠার গোলা তৈরি করার জন্য প্রয়োজন চালের গুঁড়ো, হালকা গরম পানি ও লবণ। ভেজানোর জন্য প্রয়োজন দুধ, খেজুরের রস বা গুড়, কোড়া নারকেল, দারচিনি ও এলাচ।

প্রস্তুত প্রণালীঃ চিতই পিঠা বানানোর জন্য প্রথমে চালের গুঁড়োর সাথে সামান্য একটু লবণ দিয়ে হালকা গরম পানি দিয়ে ভালো করে পাতলা মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে। মিশ্রণটা খুব বেশি পাতলা বা খুব বেশি ঘন হবে না। তারপর চিতই বানানোর খোলা চুলায় দিয়ে গরম করে নিতে হবে। 

তারপর খোলার উপর বড় চামচ দিয়ে এক চামচ মিশ্রণ দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ২-৩ মিনিট পরে চিতই পিঠা তৈরি হয়ে যাবে। এরপর খুন্তি দিয়ে পিঠা উঠিয়ে নিতে হবে। এভাবে সবগুলো চিতই পিঠা তৈরি করে নিতে হবে। তারপর চিতই পিঠা ভেজানোর জন্য দুধ, খেজুরের গুড়, নারকেল ও 

কয়েকটা দারচিনি ও এলাচ দিয়ে ভালো করে জাল দিয়ে নিতে হবে। তারপর চুলা থেকে নামিয়ে এতে তৈরি করা চিতই পিঠাগুলো দিয়ে দিতে হবে। এভাবে সারা রাত পিঠা গুলো ভিজিয়ে রেখে সকালবেলা দারুন মজার দুধ চিতই পিঠা পরিবেশন করুন।

দুধ পুলি পিঠার সহজ রেসিপি

শীতের লোভনীয় পিঠার মধ্যে আরেকটি পিঠা হচ্ছে দুধ পুলি পিঠা। শীতের পিঠাগুলোর মধ্যেও দুধ পুলি পিঠা সবার কাছে অনেক জনপ্রিয়। এ পিঠা পছন্দ করেন না এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তাছাড়া এ পিঠা বানানো টা অনেক সহজ। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক দুধ পুলি পিঠা উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালী সম্পর্কে।

দুধপুলি পিঠার উপকরণঃ কাইয়ের জন্য প্রয়োজন চালের গুঁড়ো, পরিমাণমতো পানি ও লবণ। পুরের জন্য প্রয়োজন কোড়া নারিকেল, চিনি বা গুড়। ভেজানোর জন্য প্রয়োজন দুধ, কোড়া নারকেল, চিনি বা গুড়,কয়েকটা এলাচ ও কয়েকটা তেজপাতা।

প্রস্তুত প্রণালীঃ প্রথমে একটি কড়াইয়ে পরিমান মত পানি গরম করে নিয়ে তাতে চালের গুঁড়ো ও লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে নিয়ে একটি ডো বানিয়ে নিয়ে তা ঢেকে রাখতে হবে। তারপর নারিকেল চিনি বা গুড় দিয়ে আরেকটি কড়াইয়ে মাঝারি আচে নেড়েচেড়ে পিঠার পুর বানিয়ে নিতে হবে। 

এ পর্যায়ে সেদ্ধ করে রাখা চালের গুড়োর ডো থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে ছোট ছোট রুটি বানিয়ে নিতে হবে এবং এই রুটির উপরে বানিয়ে রাখা নারিকেলের পুর দিয়ে ভাঁজ করে মুখ ভালো করে বন্ধ করে দিতে হবে যাতে মুখটা খুলে পুর বের হয়ে না যায়। এভাবে সবগুলো পিঠা বানিয়ে নিতে হবে।

এরপর পুলি পিঠা গুলো ভেজানোর জন্য দুধ, গুড় বা চিনি, কোড়া নারিকেল, এলাচ ও তেজপাতা দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে। তারপর এতে পিঠাগুলো দিয়ে দিতে হবে। পিঠাগুলো দেওয়ার পর আর একটু জ্বাল দিয়ে নিতে হবে। এরপর পিঠাগুলো নামিয়ে ঠান্ডা হলে ইচ্ছামত পরিবেশন করে নিতে পারেন।

শীতের লোভনীয় দুধ পাকন পিঠা

শীতের লোভনীয় পিঠার রেসিপি এর মধ্য আরেকটি লোভনীয় পিঠা হচ্ছে দুধ পাকন পিঠা। এ পিঠা খেতে এতটাই মজা যে আপনি না খেলে বুঝতে পারবেন না। এটা বাড়িতে থাকা উপকরণ দিয়েই খুব সহজে বানানো যায়। বিকেলে রাস্তায় অথবা অতিথি আপ্যায়নে সহজে বানিয়ে নিতে পারেন দুধ পাকন পিঠা।

দুধ পাকন পিঠার উপকরণঃ ময়দা, লবণ, ডিম, তেল, ঘি, দুধ, কোরা নারিকেল, গুড় বা চিনি, এলাচ, তেজপাতা ও পরিমাণ মতো পানি।

দুধ পাকন পিঠার প্রস্তুত প্রণালীঃ প্রথমে দুধ পাকন পিঠা বানানোর জন্য একটি কড়াইয়ে পরিমাণমতো পানি লবণ দিয়ে গরম করে নিতে হবে। তারপর সেখানে ময়দা দিয়ে ভালো করে নেড়ে সেদ্ধ করে নিয়ে একটা ডো বানিয়ে নিতে হবে। তারপর ময়দার ডো টি একটি ডিম দিয়ে ভালো করে মথে নিতে হবে। তারপর এতে একটু ঘি দিতে হবে। যাতে করে হাতে লেগে না যায়। 

এবার ময়দার ডো থেকে একটু একটু করে ময়দা নিয়ে বিভিন্ন ফুলের আকৃতিতে পিঠা বানিয়ে নিতে হবে। এছাড়া চিরনি দিয়ে দাগ কেটেও সুন্দর আকৃতির পিঠা বানিয়ে নেওয়া যায়। এভাবে সবগুলো পিঠা বানানো হয়ে গেলে একটি কড়াইয়ে পরিমাণমতো তেল দিয়ে পিঠাগুলো তেলে এপাশ-ওপাশ করে সুন্দর করে ভেজে নিতে হবে। 

পিঠাগুলো ভাজা শেষ হলে পিঠা ভেজানোর জন্য একটি পাত্রে দুধ, কোড়া নারকেল, গুড় বা চিনি, ৩-৪ টা এলাচ ও কয়েকটা তেজপাতা দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে। এরপর চুলা থেকে নামিয়ে এতে বানিয়ে রাখা পিঠাগুলো দিয়ে দিতে হবে। এরপর ঠান্ডা হলে তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু দুধ পাকন পিঠা।

পাটিসাপটা পিঠার সহজ রেসিপি

শীতকালে আরেকটি লোভনীয় ও মজাদার পিঠা হচ্ছে পাটিসাপটা। আবহমান কাল ধরে বাঙালির অনেক পছন্দের পিঠা হলো পাটিসাপটা। পাটিসাপটা পিঠা বানানো অনেক সহজ কিন্তু খেতে অনেক সুস্বাদু। চলুন তাহলে এখন জেনে নেওয়া যাক পাটিসাপটা পিঠার উপকরণ ও কিভাবে বানানো যায় সে সম্পর্কে।

পাটিসাপটা পিঠার উপকরণঃ পুর বা ক্ষীর বানানোর জন্য প্রয়োজন দুধ, নারিকেল কোরা, সুজি, চিনি বা গুড়। পাটিসাপটা পিঠার গোলা বানানোর জন্য প্রয়োজন চালের গুঁড়ো, ময়দা, লবণ, চিনি বা গুড় ও পরিমান মত পানি আর ভাজার জন্য প্রয়োজন তেল।

পাটিসাপটা পিঠার প্রস্তুত প্রণালীঃ পাটিসাপটা পিঠা তৈরির জন্য প্রথমে এর পুর বা বা ক্ষীর তৈরি করে নিতে হবে। এর জন্য একটি কড়াইয়ে পরিমাণ মতো দুধ ও চিনি বা গুড় দিয়ে ভালো করে জাল দিয়ে ঘন করে নিতে হবে। এরপর সেখানে পরিমাণ মতো সুজি ও নারিকেল কোরা দিয়ে নেড়ে ক্ষীর করে নিতে হবে।

এবার পাটিসাপটা পিঠা তৈরির জন্য গোলা তৈরি করে নিতে হবে। এর জন্য চালের গুড়ো, যে পরিমাণ চালের গুঁড়ো তার অর্ধেক ময়দা পরিমাণ মতো চিনি বা গুড় ও পরিমান মত লবণ নিয়ে সেখানে পানি দিয়ে পাতলা গোলা তৈরি করে নিতে হবে। 

এ পর্যায়ে একটি প্যান চুলায় দিয়ে গরম করে নিতে হবে। এরপর প্যানে সামান্য পরিমাণ তেল ব্রাশ করে নিতে হবে। তারপর একটি মাঝারি আকৃতি চামচ দিয়ে এক চামচ বানিয়ে রাখা পাটিসাপটা পিঠার গলা প্যানে দিয়ে দিতে হবে এবং চামচ দিয়ে সুন্দর করে পাতলা করে ছড়িয়ে দিতে হবে। 

যখন এটি রুটির মত উপরে শুকিয়ে আসবে তখন এর উপর তৈরি করে রাখা ক্ষীর লম্বা করে ছড়িয়ে দিতে হবে। তারপর পিঠাটি মুড়িয়ে পাটিসাপটার আকৃতি দিয়ে ভেজে নিতে হবে। এভাবেই তৈরি হয়ে যাবে মজাদার ও লোভনীয় পাটিসাপটা পিঠা।

আরও পড়ুনঃ সকালে খালি পেটে কি খেলে ওজন কমে 

শীতের লোভনীয় নকশী পিঠার রেসিপি

গ্রাম বাংলার আরেকটি লোভনীয় পিঠা রেসিপি হল নকশি পিঠা। পিঠার গায়ে নকশা এঁকে তৈরি করা হয় বলে একে নকশী পিঠা বলা হয়। শহরাঞ্চলে এ পিঠার খুব একটা প্রচলন নেই কিন্তু গ্রামাঞ্চলে এখনো নকশী পিঠা তৈরি করা হয়। এ পিঠা দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও অনেক মজা।

নকশী পিঠার উপকরণঃ নকশী পিঠা তৈরি করার জন্য প্রয়োজন চালের গুড়ো, লবণ, গুড় বা চিনি এবং ভাজার জন্য তেল।

নকশী পিঠার প্রস্তুত প্রণালীঃ প্রথমে নকশী পিঠা তৈরি করার জন্য একটি পাত্রে পরিমাণ মতো লবণ দিয়ে পানি গরম করতে হবে। তারপর সে পাত্রে চালের গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে নেড়েচেড়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। তারপর সিদ্ধ চালের গুঁড়ার ডো ঠান্ডা হওয়ার জন্য রেখে দিতে হবে।

এ পর্যায়ে নকশী পিঠা ভেজানোর জন্য শিরা তৈরি করে নিতে হবে। এর জন্য চিনিবা গুড় সামান্য একটু পানি দিয়ে জাল দিয়ে আঠালো করে নিতে হবে। এখন সিদ্ধ করে রাখা চালের গুড়োর ডো টাকে ভালো করে মথে নিতে হবে তারপর একটি পিরাতে তেল দিয়ে ছোট করে রুটি তৈরি করে নিতে হবে। রুটি টা একটু মোটা করে তৈরি করতে হবে। 

তারপর একটি টুথ পিক অথবা খেজুরের কাঁটা দিয়ে বিভিন্ন রকম ডিজাইন করে নকশি পিঠাগুলো তৈরি করতে হবে। এরপর পিঠাগুলো তৈরি করা হয়ে গেলে একটি প্যানে তেল গরম করে পিঠাগুলো ভেজে নিতে হবে। তারপর তৈরি করে রাখা চিনি বা গুড়ের শিরায় ডুবিয়ে রাখতে হবে। এভাবে ২-৩ মিনিট ভিজিয়ে রাখার পর তুলে নিতে হবে। এভাবে তৈরি হয়ে যাবে লোভনীয় ও সুস্বাদু নকশী পিঠা।

ছিটা রুটির সহজ রেসিপি

শীতের আরেকটি লোভনীয় পিঠার রেসিপি হল ছিটা রুটি। চালের গুড়োর মিশ্রণে হাত ডুবিয়ে প্যানের উপর ছিটিয়ে ছিটিয়ে তৈরি করা হয় বলে এ পিঠাকে বলা হয় ছিটা রুটি। অনেকে আবার একে সিটরুটি ও বলে থাকেন। এ রুটি দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও তেমন অসাধারণ মজার। ছিটা রুটি হাঁসের মাংস দিয়ে খেতে অনেক সুস্বাদু। চলুন তাহলে এখন জেনে নেওয়া যাক ছিটা রুটির উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালী সম্পর্কে।

ছিটা রুটির উপকরণঃ ছিটা রুটি বানানোর জন্য লাগবে চালের গুড়ো, ডিম, পরিমাণ মতো লবণ, তেল ও পানি।

ছিটা রুটির প্রস্তুত প্রণালীঃ ছিটা রুটি বানানোর জন্য প্রথমে চালের গুঁড়ো,লবণ ও পানি দিয়ে পাতলা গোলা তৈরি করে নিতে হবে। সাথে একটি ডিম ফেটিয়ে গোলার মধ্য মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর একটি প্যান চুলায় বসিয়ে দিতে হবে। প্যান গরম হয়ে আসলে সামান্য একটু তেল ব্রাশ করে দিতে হবে। 

এরপর চালের গুরোর গোলার মধ্যে হাত ডুবিয়ে প্যানের উপর আঙ্গুল ঝেরে ঝেরে ছিটিয়ে দিতে হবে। এভাবে চার পাঁচ বার চালের গুড়ার গোলায় হাত ডুবিয়ে ছিটিয়ে দিতে হবে। এরপর কয়েক মিনিট ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে চুলার জাল যেন খুব বেশি জোরে না হয়ে যায়। 

তাহলে পিঠা পুড়ে যাবে। তারপরে পিঠা গোল, তিনকোণা অথবা পাটিসাপটা পিঠার মত ভাজ করে উঠিয়ে নিতে হবে। এভাবে সবগুলো পিঠা বানানো হয়ে গেলে গোস্ত অথবা হালুয়া অথবা খেজুরের গুড়ের সাথে গরম গরম পরিবেশন করতে পারেন।

শীতের লোভনীয় ভাপা পুলি পিঠা

শীতের লোভনীয় পিঠার সহজ রেসিপি এর মধ্যে ভাপা পুলি পিঠা একটি। এ পিঠা এতটা সুস্বাদু যে আপনি না খেলে বুঝতে পারবেন না। এ পিঠা বানানো অনেক সহজ ঘরে থাকা কিছু উপকরণ দিয়ে সহজে বানিয়ে নেয়া যায় ভাপা পুলি পিঠা। ভাপা পুলি পিঠা নারিকেল দিয়ে যেমন খাওয়া যায় তেমনি গোশত বা সবজি দিয়েও বানিয়ে খেতে অনেক মজা। চলুন তাহলে কথা না বাড়িয়ে ভাপা পুলি পিঠা কিভাবে বানানো যায় তা আলোচনা করি।

ভাপা পুলি পিঠার উপকরণঃ ভাপা পুলি পিঠা তৈরি করতে যেসব উপকরণের প্রয়োজন তাহলে চালের গুঁড়ো, লবণ, কোরা নারিকেল, গুড়াদুধ, খেজুরের গুড় ও পানি।

ভাপা পুলি পিঠার প্রস্তুত প্রণালীঃ প্রথমে ভাপা পুলি পিঠার পুর তৈরি করার জন্য চুলার উপর একটি প্যান বসিয়ে দিতে হবে। সেখানে কোরা নারিকেল ও খেজুরের গুড় দিয়ে নেড়েচেড়ে তাতে গুড়া দুধ মিশিয়ে পুর তৈরি করে নিতে হবে। এরপর পুলি পিঠা বানানোর ডো তৈরি করে নিতে হবে। 

এর জন্য চালের গুঁড়ো পানিও লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। তারপর ঠান্ডা করে নিয়ে ছোট ছোট রুটি বানিয়ে রুটির উপর বানিয়ে রাখা নারিকেলের পুর দিয়ে রুটির দুই পাশ একসাথে করে ভালো করে বন্ধ করে দিতে হবে। এরপর পুলি পিঠাগুলো বানানো শেষ হলে ভাপিয়ে নিতে হবে। 

এর জন্য চুলার উপর একটি হাড়ি অথবা স্টিমার দিয়ে পিঠাগুলো ১০-১৫ মিনিট ভালো করে ভাপিয়ে নিতে হবে। পিঠাগুলো যখন সেদ্ধ হয়ে যাবে তখন নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করতে হবে। 

FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ শীতের সবচেয়ে লোভনীয় পিঠাগুলো কি কি?

উত্তরঃ ভাপা পিঠা, দুধ পুলি পিঠা, দুধ চিতই পিঠা, নকশী পিঠা, ভাপা পুলি পিঠা, ছিটা রুটি,পাটিসাপটা। 

প্রশ্নঃ দুধ চিতই পিঠা বানাতে দুধের পরিবর্তে কি পানি ব্যবহার করা যায়?

উত্তরঃ হ্যাঁ, পানি ব্যবহার করা যায় কিন্তু দুধ দিয়ে বানানো চিতই পিঠা বেশি স্বাদ হয়ে থাকে।

প্রশ্নঃ কোন পিঠা বেশি সুস্বাদু চিনি না খেজুরের গুড় দিয়ে বানানো পিঠা?

উত্তরঃ খেজুরের গুড় দিয়ে বানানো পিঠা বেশি সুস্বাদু।

প্রশ্নঃ পিঠা নরম রাখার জন্য কি করতে হবে?

উত্তরঃ পিঠা বানানোর পর গরম অবস্থায় ঢেকে রাখতে হবে। বিশেষ করে ভাপা পিঠা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখলে অনেকক্ষণ নরম থাকে।

শেষ কথাঃ শীতের লোভনীয় কয়েকটি পিঠার সহজ রেসিপি

শীতের লোভনীয় কয়েকটি পিঠার সহজ রেসিপি সম্পর্কে আজকের এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। উপরিউক্ত পিঠার রেসিপি গুলো বানিয়ে আপনারা পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে শীতের সকালে অথবা বিকেলে আনন্দের সাথে উপভোগ করতে পারবেন। বাঙালি সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের সাথে জড়িয়ে আছে এই পিঠাগুলো। 

ঘরে থাকা কিছু উপকরণ দিয়ে অতি সহজে এই পিঠাগুলো বানিয়ে নিজে খেতে পারেন এবং পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিবেশন করতে পারবেন। আজকের মত আমার আলোচনা এ পর্যন্তই। আজকের এই আর্টিকেলে যদি কোন ভুল হয়ে থাকে তাহলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এতক্ষন সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url