বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ১০টি ভয়াবহ বন্যা সম্পর্কে জানুন
বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ১০টি ভয়াবহ বন্যা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার জন্য ও আপনাদের জানানোর জন্য আজকে এই আর্টিকেল লিখতে বসলাম। বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। যে কারণে বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নদীগুলো কানায় কানায় ভরে ওঠে বন্যার সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশের প্রতিবছরই ছোট বড় ও মাঝারি বন্যা হয়ে থাকে এর মধ্যে কোন কোন বছরে বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এরকমই বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ১০টি ভয়াবহ বন্যা সম্পর্কে এখন আলোচনা করব।পোস্ট সূচিপত্রঃ বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ১০টি ভয়াবহ বন্যা
- বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ১০টি ভয়াবহ বন্যা
- ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ বন্যা
- ১৯৮৭ সালের বন্যার ভয়াবহতা
- ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যা
- ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যা
- ২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যা
- ২০০৭ সালে বন্যার ভয়াবহতা
- ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যা
- বন্যার ভয়াবহতায় সেরা ২০২০ সালের বন্যা
- ২০২২ সালের বন্যার ভয়াবহতা
- ২০২৪ সালের বন্যার ভয়াবহতা
- FAQ: বহু জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
- শেষ কথাঃ বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ১০টি ভয়াবহ বন্যা
বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ১০টি ভয়াবহ বন্যা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ভূতাত্বিক গঠন ও জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দুর্যোগ প্রবণ দেশগুলোর মধ্য বাংলাদেশ অন্যতম দুর্যোগ প্রবণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশের বুক চিরে বয়ে গেছে ছোট বড় অনেক নদী। যার কারণে অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের তুলনায় এদেশে বন্যার প্রকোপ অনেক বেশি।
বাংলাদেশে সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে বন্যা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে প্রতিবছরই ছোট বড় বন্যা হয়ে থাকে। কিন্তু এরই মধ্যে কিছু কিছু বন্যা এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল যা ইতিহাসের বুকে ভয়াবহ বন্যা হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। এসব বন্যা শুধু ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি করেনি সেই সাথে অর্থনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মানুষের জীবন যাত্রার ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে।
এইরকম বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ১০টি ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল ১৯৭৪, ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪, ২০০৭, ২০১৭, ২০২০, ২০২২ ও ২০২৪ সালে। এইসব বন্যার ভয়াবহতা এমনই ছিল যে এখনো মনে হলে গা শিউরে ওঠার মত। যদিও সবগুলো বন্যা আমার নিজের দেখা নয় তারপরেও ইতিহাস থেকে জেনে বুঝেছি আসলে এসব বন্যার ভয়াবহতা অনেক বেশি।
এই বন্যাগুলোতে মানুষের ঘরবাড়ি ফসল গবাদি পশু প্রভৃতি ভেসে নিয়ে গেছে। এমনকি এসব বন্যায় অনেক মানুষের জীবন চলে গেছে। অনেক শিশুরও প্রাণহানি হয়েছে। বর্তমানে টানা মৌসুমী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলে বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি প্রভৃতি এলাকার লাখো লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। জানিনা এ বছরের বন্যাও বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহ বন্যার তালিকায় উঠে আসে কিনা স্বয়ং আল্লাহ জানেন। আল্লাহ যেন আমাদের হেফাজত করেন ভয়াবহ বন্যার কবল থেকে আমিন।
১৯৭৪ সালের ভয়াবহ বন্যা
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের তিন বছর পর বাংলাদেশ আবার ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়। প্রবল বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার কবলে পড়ে। এর ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতি হয় খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হয় যা দুর্ভিক্ষের রূপ নেই। বন্যা পরবর্তী সময়ে অবস্থা আরো ব্যাপক ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ করোনা ভাইরাসের টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি-বিস্তারিত জানুন
১৯৭৪ সালের বন্যায় জানমালের অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে। যা পরবর্তীতে দুর্ভিক্ষের রূপ
নেই। খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ব্যাপক খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল। বন্যার
ক্ষয়ক্ষতির সাথে খাদ্য সংকট মিলে ওই সময় মানবিক বিপর্যয় আরো ব্যাপক ভয়াবহ করে
তোলে। ১৫৭৪ সালের বন্যার পরবর্তী সময়ে যে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল তাতে বহু
মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৮৭ সালের বন্যার ভয়াবহতা
১৯৮৭ সালের বন্যা ছিল বাংলাদেশের ভয়াবহ বন্যা গুলোর মধ্যে একটি। প্রবল বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে সৃষ্ট বন্যা বাংলাদেশের বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। এ বন্যায় বাংলাদেশের প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে ডুবে যায়। এ বন্যায় প্রচুর ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ধান পাট সহ অন্যান্য ফসলের অনেক ক্ষতি হয়। এ বন্যায় অনেক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে
যায় মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য
হয়েছিল। এ বন্যায় হাজার হাজার কিলোমিটার রাস্তা ও বহু সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা
যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছিল। মোটকথা ১৯৮৭ সালের বন্যার ভয়াবহতা এত
বেশি ছিল যে যার কারণে জান মালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যা
যে ১০ টি ভয়াবহ বন্যা বাংলাদেশের বুকে ঘটে গিয়েছিল তারই একটি হচ্ছে ১৯৮৮ সালের বন্যা। এ বন্যায় বাংলাদেশের প্রায় ৬০% এলাকা পানির নিচে চলে যায়। এমনকি ১৯৮৮ সালের বন্যায় রাজধানী ঢাকার বিশাল অংশ বন্যায় প্লাবিত হয়। এ বন্যায় লাখ লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। ফলে তারা আশ্রয় কেন্দ্র যেতে বাধ্য হয়।
এ বন্যা স্থানভেদের ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এ বন্যায় সরকারি বেসরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল প্রভৃতির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বহু মানুষ বিদ্যুৎ বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকটে পড়েন। বিশুদ্ধ পানির সংকটে ডায়রিয়া কলেরা ও চর্মরোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৯৮৮ সালের বন্যার প্রধান কারণ ছিল সারা দেশে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও
দেশের প্রধান তিনটি নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি যার কারণে ঢাকা সহ বাংলাদেশের বেশিরভাগ এলাকা ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি হয়। এই বন্যায় ২৩০ জন মানুষের মৃত্যু ঘটে। এছাড়াও হাজার হাজার গবাদি পশু মারা যায়। ১৯৮৮ সালে বন্যায় মানুষের ঘরবাড়ি ফসল গবাদিপশু যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ সব কিছুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ বন্যায় বাংলাদেশের হাজার কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যা
বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ১০টি ভয়াবহ বন্যা গুলোর মধ্যেও সবচেয়ে ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হয় ১৯৯৮ সালে। এ বন্যায় বাংলাদেশের প্রায় ৬৮ শতাংশ এলাকা পানির নিচে ছিল। এ বন্যার দুই মাসের বেশি সময় ধরে স্থায়ী ছিল। এ বন্যার কারণে দেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতিটা অনেক বেশি ছিল।
প্রচুর ফসল, মাছের ঘের, পুকুর প্রভৃতি ভাসিয়ে নিয়ে যায় এই ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যা। লক্ষ লক্ষ পরিবার দীর্ঘদিন পানি বন্দি জীবন যাপন করে। অনেকে ঘর বাড়ি হারিয়ে উঁচু স্থান, বাঁধ, স্কুল কলেজে আশ্রয় নেই। এ সময় শিক্ষাক্ষেত্র ও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল এ সময় স্কুল কলেজ বন্ধ হয়ে যায় । সেই সাথে বিশুদ্ধ পানির ব্যাপক অভাব দেখা দেয় যার ফলে ডায়রিয়া কলেরা ও চর্মরোগ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল।
যা অনেক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলেছিল জনগণকে। ১৯৯৮ সালের বন্যায় প্রায় ১১০০ জন মানুষের মৃত্যু ঘটে এ বন্যাতে দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো ব্যাপক ঝুঁকি সম্মুখীন হয়েছিল। এই সময় সরকার সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীর সংগঠন দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণে নিয়োজিত ছিল। ১৯৯৮ সালের বন্যা যে অনেক ভয়াবহ ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যা
ভয়াবহতা দিক দিয়ে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বন্যা গুলোর মধ্যেও ২০০৪ সালে বন্যার ভয়াবহতা কম ছিল না। এ বন্যায় দেশের প্রায় ৩৮ শতাংশ এলাকা পানির নিচে ডুবে যায় ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বন্যাতে বাংলাদেশের ঢাকা রাজশাহী খুলনা সহ বিভিন্ন এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বন্যায় পরিবহন ব্যবস্থায় অবনতি ঘটে এছাড়াও প্রচুর ফসল পানির নিচে তলিয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ AI দিয়ে কিভাবে অনলাইনে টাকা ইনকাম করা যায়- ১০টি উপায় সম্পর্কে জানুন
যা বাংলাদেশ অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেয়। এ বন্যায় বিশুদ্ধ পানির অভাবে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। যা বাংলাদেশের জনগণকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে। ২০০৪ সালের বন্যার মূল কারণ ছিল টানা ভারী বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পানি ও দেশের কয়েকটি নদীর একযোগে পানি বৃদ্ধি পাওয়া যা ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে।
২০০৭ সালে বন্যার ভয়াবহতা
২০০৪ সালের বন্যার রেস কাটিয়ে উঠতে না উঠতে আবারও বাংলাদেশে ২০০৭ সালে ভয়াবহ বন্যার আবির্ভাব ঘটে। জুলাই আগস্ট মাসে উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে দেশে প্রধান নদী গুলোর পানে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে বাংলাদেশের পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করায় দেশের প্রায় অর্ধেক এলাকায় ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হয়।
এ বন্যায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। অনেক মানুষ উঁচু বাঁধ স্কুল কলেজ ও বিভিন্ন উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেই। এ বন্যায় দেশের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় অর্থনীতিকে দুর্বল করে ফেলে। তাছাড়া এ বন্যাতে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
২০০৭ সালে বন্যায় মানুষ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এরই মধ্যে একই সালের নভেম্বর
মাসে দেশে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানে। ফলে দেশের দুর্যোগ পরিস্থিতি আরো
ব্যাপক হয়েছে। এতে লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদন
ব্যাহত হয়।
২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যা
বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ১০টি ভয়াবহ বন্যা গুলোর মধ্যে ২০১৭ সালের বন্যা ছিল অনেক ভয়াবহ। এ বন্যায় সিলেট, সুনামগঞ্জ সহ দেশের প্রায় ২০টি জেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এ বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দেশের কৃষি ব্যবস্থা। বিশেষ করে প্রচুর ধানক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় দেশের কৃষি ব্যবস্থা ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়ে।
তাছাড়া বিভিন্ন মাছের খামার গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ বন্যাতেও বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আশ্রয় নেই। এ বন্যায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
বন্যার ভয়াবহতায় সেরা ২০২০ সালের বন্যা
২০২০ সালের বন্যা আমার দেখা সেরা একটি ভয়াবহ বন্যা। একদিকে মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাগ অন্যদিকে ভয়াবহ বন্যা দুইটি মিলে বাংলাদেশে খুব ভয়ঙ্কর অবস্থা সৃষ্টি করেছিল। এ বন্যাতে লক্ষ লক্ষ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেই। মহামারি করার কারণে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে আশ্রয় কেন্দ্র পরিচালনা করা
ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছিল। বর্ষা মৌসুমের শেষের
দিকে এ বন্যা ঘটেছিল যা অনেকটা দীর্ঘস্থায়ী ছিল। এ বন্যায় সবচেয়ে বেশি
স্বাস্থ্য ঝুঁকি ছিল একদিকে করোনা অন্যদিকে বিশুদ্ধ পানির অভাব। সব মিলিয়ে খুব
দুর্বিসহ একটা অবস্থার হয়েছিল ২০২০ সালের ভয়াবহ বন্যাতে।
২০২২ সালের বন্যার ভয়াবহতা
২০২২ সালের বন্যা ছিল বাংলাদেশের ভয়াবহ বন্যার ইতিহাসে আরেকটি উল্লেখযোগ্য আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা। এ বন্যায় বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিলেট মৌলভীবাজার নেত্রকোনা সহ বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মে ও জুন মাসে ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেই মাসে পাহাড়ি ঝড়ের কারণে ২০২২ সালে বন্যা সংঘটিত হয়ে থাকে।
এ বন্যায় বাংলাদেশের সিলেট ও সুনামগঞ্জ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বন্যায় 40 লক্ষের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও ১৫লাখ শিশু ঝুঁকির সম্মুখে পড়ে। এবং না এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে বাড়ির ছাদ পর্যন্ত পানি উঠে গিয়েছিল। ২০২২ সালের বন্যাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে যায় ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
এ বন্যায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস বাহিনী নৌকা অফিসে
যানবাহনের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। এ বন্যাতে কৃষি ও মৎস্য খাতে
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই সাথে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়া, কলেরা,
চর্মরোগ প্রভৃতি রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায় ।
২০২৪ সালের বন্যার ভয়াবহতা
২০২৪ সালে বাংলাদেশে আবারো একটি ভয়াবহ বন্যার আবির্ভাব ঘটে। আগস্ট মাসে অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে থেকে নেমে আসা পানির কারণে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়। এ বন্যায় বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের ১১ টি জেলা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফেনী কুমিল্লা নোয়াখালী মৌলভীবাজার সিলেট প্রভৃতি জেলাগুলো।
এ বন্যায় প্রায় ৫০ থেকে ৫৮ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৫ লক্ষাধিক মানুষকে
আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ বন্যাতে কৃষি ফসল ও মৎস্য ক্ষেত্র ব্যাপক
ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রভাব
বিস্তার করে। এ বন্যাতে সরকার নৌবাহিনী সেনাবাহিনী ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও
বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
আরও পড়ুনঃ মেয়েরা কিভাবে ঘরে বসে আয় করবে সেরা ১৬টি উপায়-মেয়েদের ঘরে বসে আয়
FAQ: বহু জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃবাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ১০টি ভয়াবহ বন্যা এর মত সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা কোনটি?
উত্তরঃ বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া দশটি ভয়াবহ বন্যার মধ্যে সবচেয়ে
ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। এ বন্যা সবচেয়ে ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী ছিল। এ
বন্যায় দেশে ৬৮ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয় এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
হয়।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশে প্রতিবছর কেন বন্যা হয়?
উত্তরঃ বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অতিবৃষ্টি, বিভিন্ন নদ-নদী প্রভাব, উজান থেকে
নেমে আসা পানি, জলাবদ্ধতা নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে
প্রতিবছর কম বেশি বন্যা হয়ে থাকে।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের কোন কোন জেলা বন্যা প্রবণ?
উত্তরঃ বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, গাইবান্ধা, জামালপুর, ফেনী, লালমনিরহাট সহ বেশ কিছু জেলা তে প্রতিবছর বন্যার আশঙ্কা থাকে।
প্রশ্নঃ বন্যার ফলে বাংলাদেশের কোন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
উত্তরঃ বন্যার ফলে বাংলাদেশের কৃষি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও
যোগাযোগ ব্যবস্থা মৎস্য খাত ও গ্রামীণ অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
প্রশ্নঃ বন্যার সময় কি কি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন?
উত্তরঃ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়া, বিশুদ্ধ পানি পান করা, শুকনো খাবার ও
প্রয়োজনীয় ঔষধ মজুদ রাখা, বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে দূরে থাকা ও সরকার নির্দেশনা মেনে
চলা উচিত।
শেষ কথাঃ বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ১০টি ভয়াবহ বন্যা
বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ১০টি ভয়াবহ বন্যা সম্পর্কে আজকের এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করছি আপনারা আমার এই আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের বুকে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যা সম্পর্কে ধারণা পাবেন। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, বাংলাদেশের বুকে বয়ে যাওয়া বিভিন্ন নদী,
মৌসুমী বৃষ্টিপাত, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা প্রভৃতি কারণে বাংলাদেশের প্রতিবছরই ছোট বড় বন্যা হয়ে থাকে। নদী খনন, শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ, আগাম বন্যা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বনায়ন প্রভৃতি কার্যক্রম বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আজকের আর্টিকেল এখানে শেষ করছি, ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url