ঠোঁটের কোণে ঘা হয় কোন ভিটামিনের অভাবে
ঠোঁটের কোণে ঘা হয় কোন ভিটামিনের অভাবে তা যদি আপনি জানতে চান তাহলে আজকের এই আর্টিকেল আপনার জন্য। অনেকেরই ঠোঁটের কোণে ঘা হয়ে থাকে। ডাক্তারি ভাষায় যাকে বলা হয় অ্যঙ্গুলার চিলাইটিস। ঠোঁটের কোণে ঘা একটি অস্বাভাবিক ও বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করে।
যাদের ঠোঁটের কোণে ঘা হয় তারাই বুঝতে পারে এর জন্য কতটা সমস্যায় পড়তে হয়। শীতকাল ও গ্রীষ্মকাল যেকোনো সময় ঠোঁটের কোণে ঘা হতে পারে। ঠোঁটের কোণে ঘা হলে দেখতে যেমন খারাপ লাগে তেমনি বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। চলুন তাহলে এখন আলোচনা করা যাক ঠোঁটের কোণে ঘা হয় কোন ভিটামিনের অভাবে তা নিয়ে।পোস্ট সূচিপত্রঃ ঠোঁটের কোণে ঘা হয় কোন ভিটামিনের অভাবে
- ঠোঁটের কোণে ঘা কি?
- ঠোঁটের কোণে ঘা হয় কোন ভিটামিনের অভাবে
- ভিটামিন বি২ এর অভাবে ঠোঁটের কোণে ঘা হয়
- ভিটামিন বি৩ এর অভাবে ঠোঁটের কোণে ঘা হয়
- ভিটামিন বি৬ এর অভাবে ঠোঁটের কোণে ঘা হয়
- ভিটামিন বি১২ এর অভাবে ঠোঁটের কোণে ঘা হয়
- অন্যান্য যেসব কারণে ঠোঁটে ঘা হয়
- ঠোঁটের কোণে ঘা হওয়ার লক্ষণ
- ঠোঁটের কোণে ঘা হলে করণীয়
- ঠোঁটের কোণে ঘা ভালো করার ঘরোয়া উপায়
- কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত
- ঠোঁটের কোণে ঘা প্রতিরোধের উপায়
- FAQ: বহু জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
- শেষ কথাঃ ঠোঁটের কোণে ঘা হয় কোন ভিটামিনের অভাবে
ঠোঁটের কোণে ঘা কি?
ঠোঁটের কোণে ঘা হয় কোন ভিটামিনের অভাবে তা নিয়ে আলোচনার পূর্বে ঠোঁটের কোণের ঘা আসলে কি সে সম্পর্কে জানাটা জরুরী। ঠোঁটের দুই পাশের কোনায় লাল হওয়া, ঘা হওয়া, ফেটে যাওয়া,জ্বালাপোড়া হওয়া, অথবা রক্ত পড়লে তখন তাকে সাধারণত ঠোঁটের কোণে ঘা বলা হয়। অনেক সময় ঠোঁটের কোণের ঘায়ে সাদা আস্তরণ পড়ে থাকে। ঠোঁটের কোণে ঘা সাধারণত নারী পুরুষ ছোট শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক দের ও হতে পারে। যাদের শরীরে ভিটামিন ও পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে সাধারণত তাদেরই ঠোঁটের কোনে ঘা বেশি দেখা যায়।
ঠোঁটের কোণে ঘা হয় কোন ভিটামিনের অভাবে
ঠোঁটের কোনে ঘা একটি সাধারন কিন্তু কষ্টদায়ক সমস্যা। ঠোঁটের কোণে ঘা সাধারণত বিভিন্ন ভিটামিনের অভাবে হয়ে থাকে। ঠোঁটের কোণে ঘা বিশেষ করে ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অভাবে বেশি হয়ে থাকে। ঠোঁটের কোণে ঘা ভিটামিন বি২, ভিটামিন বি৩, ভিটামিন বি৬, ভিটামিনবি১২ এর অভাবে হয়ে থাকে।
এসব ভিটামিনের অভাবে ঠোঁটের কোণে ফাটা, ঠোঁটে ও মুখে ঘা, লাল হয়ে যাওয়া ও জ্বালাপোড়া দেখা দিয়ে থাকে। এছাড়াও অন্যান্য কারণেও ঠোঁটের কোণে ঘা বাড়িয়ে দিতে পারে। চলুন তাহলে কথা না বাড়িয়ে ঠোঁটের কোণে ঘা হয় কোন ভিটামিনের অভাবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।
ভিটামিন বি২ এর অভাবে ঠোঁটের কোণে ঘা হয়
ভিটামিন বি২ রিবোফ্লাভিন নামে পরিচিত। এটি আমাদের শরীরে জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন। এটি আমাদের দেহের শক্তিবর্ধক, চোখ, ত্বক ও স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন বি২ এর অভাবে আমাদের শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এরমধ্যে প্রধান যে সমস্যা দেখা দিতে পারে তা হচ্ছে মুখে ও ঠোঁটের কোণে ঘা হওয়া।
ঠোঁটের কোণে ঘা এড়াতে ভিটামিন বি২ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেসব খাবারে পর্যাপ্ত ভিটামিন বি২পাওয়া যায় সেসব খাবার হচ্ছে মাছ,মাংস,শাকসবজি (বিশেষ করে পালং শাক), ডিম,দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাবার, ব্রাউন রাইস, ওটস, বাদাম, সাইট্রাস ফল। ভিটামিন বি২ এর অভাব পূরণ করতে এই খাবারগুলো আমাদের দৈনন্দিন খাবার তালিকায় রাখতে হবে।
আরও পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় খেজুর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
এছাড়াও যদি আপনি ভিটামিন বি২ এর অভাব বেশি বোধ করেন তাহলে ভিটামিন বি২
সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই
ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
ভিটামিন বি৩ এর অভাবে ঠোঁটের কোণে ঘা হয়
ভিটামিন বি৩ ত্বক, স্নায়ু ও হজম প্রক্রিয়া ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন বি৩ অভাবে শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে যার মধ্য ঠোঁটের কোণে ঘা একটি সমস্যা। ভিটামিন ব ৩ এর অভাবে ঠোঁটের কোণে শুষ্ক হয়ে ফেটে যায় এবং ঘায়ের সৃষ্টি হয়। ভিটামিন বি.৩ এর অভাবে অনেক সময় মুখের ভিতর ঘা ও জিহ্বা লাল হয়ে যেতে পারে।
এ সমস্যা ছোট বড় সকলেরই হতে পারে। তাই আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় ভিটামিন
বি৩ সমৃদ্ধ খাবার গুলো রাখতে হবে। যেসব খাবারে প্রচুর ভিটামিন বি৩ পাওয়া যায়
তাহলো সবুজ শাকসবজি, ডাল, মুগডাল, মাছ, চিকেন, অ্যাভোকাডো, মাশরুম, মটর, আলু,
সূর্যমুখীর বীজ, ব্রাউন রাইস প্রভৃতি।
ভিটামিন বি৬ এর অভাবে ঠোঁটের কোণে ঘা হয়
ঠোঁটের কোণে ঘা হয় কোন ভিটামিনের অভাবে এ প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় ভিটামিন ডি সিক্সের অভাবেও স্বাভাবিকভাবে ঠোঁটের কোণে ঘা দেখা যায়। ভিটামিন বি সিক্স ত্বক স্নায়ু ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিনবি৬ এর অভাবে ঠোঁটের কোণে ঘা সহ অনেক সময় মুখের ভিতরে ঘা হয়ে থাকে। যা সারতে দীর্ঘদিন লেগে যায়। তাই দৈনন্দিন খাবার তালিকায় ভিটামিন বি৬ যুক্ত খাবার রাখাটা জরুরী। ভিটামিন বি৬ যুক্ত খাবার গুলো হল কলা, আলু, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল, বাদাম প্রভৃতি।
ভিটামিন বি১২ এর অভাবে ঠোঁটের কোণে ঘা হয়
ভিটামিন বি১২ এর অভাবেও ঠোঁটের কোণে ঘা হয়ে থাকে। ঠোঁটের কোণে ঘা, ঠোঁট ফেটে যাওয়া, মুখে ঘা, জিহ্বার স্বাদ পাল্টে যাওয়া এসব কিছুই ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতির লক্ষণ। এই লক্ষণ গুলো দেখা দিলে আপনি বুঝবেন যে আপনার ভিটামিন বি১২ এর অভাব হয়েছে। তখন আপনাকে বেশি বেশি ভিটামিন বি১২এর যুক্ত খাবার গুলো দৈনন্দিন খাবার তালিকায় রাখতে হবে।
ভিটামিন বি১২ যুক্ত খাবার গুলো হল মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, দই, পনির ইত্যাদি। এই
খাবারগুলো যারা নিয়মিত গ্রহণ করে থাকে তাদের ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি কম হয়ে
থাকে। যারা নিরামিষ ভোজী তাদের সমস্যাটা বেশি হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের
পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন বি১২ সাপ্লিমেন্ট নেয়া যেতে পারে।
অন্যান্য যেসব কারণে ঠোঁটে ঘা হয়
কোন ভিটামিনের অভাবে ঠোঁটের কোণে ঘা হয় এ প্রসঙ্গে বলা যায় যে ঠোঁটের কোণের ঘা এর জন্য প্রধান কারণ হচ্ছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এর ঘাটতি। যদিও এটা প্রধান কারণ হলেও অন্যান্য আরো কিছু কারণে ঠোঁটের ঘায়ের সমস্যাটাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যান্য যেসব কারণে ঠোটে ঘা হয়ে থাকে সেগুলো হচ্ছেঃ
- আয়রনের অভাব অর্থাৎ রক্তস্বল্পতা থাকলে ঠোঁটের ঘা আরও জটিল আকার ধারণ করে।
- ডায়াবেটিস রোগীদের ঠোঁটের কোণে ঘা বেশি দেখা যায়।
- শরীরে ইমিউনিটি কম থাকলে ঠোঁটের ঘা এর প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
- বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট চাটলে ঠোঁটের কোণে নরম হয়ে ঘা এর সৃষ্টি হয়।
- অনেক সময় জ্বর সর্দির কারণেও ঠোঁটের কোণে ঘায়ের সৃষ্টি হয়ে থাকে।
- ফাংগাল বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ অনেক সময় ঠোঁটের কোণে ঘা এর সৃষ্টি করে।
- দীর্ঘদিন পান সুপারি তামাক সেবন এমনকি গুল ব্যবহার করার কারনেও এ সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
- শিশুদের আঙ্গুল চোষার কারণেও এ সমস্যা হতে পারে।
- এমনকি দীর্ঘ সময় মার্ক ব্যবহার করার ফলেও ঠোঁটের কোণে ঘায়ের সৃষ্টি হতে পারে।
- মুখে শুষ্কতার কারনেও অনেক সময় ঠোঁটের কোণে ফেটে গিয়ে ঘায়ের সৃষ্টি হতে পারে।
ঠোঁটের কোণে ঘা হওয়ার লক্ষণ
ঠোঁটের কোণে ঘা হলে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়। এই লক্ষণগুলো ধাপে ধাপে লক্ষ্য করা
যায়। ঠোঁটের কোণে ঘা হলে যে লক্ষণ গুলো দেখা যায় তা হলঃ
- ঠোঁটের কোণে লালচে ভাব দেখা যায়।
- ঠোঁটের কোণের চামড়া ফেটে যায়।
- ঠোঁটের কোণে ফোলা ভাব ও চুলকানি হতে পারে।
- তীব্রজালা ও ব্যথা অনুভব হয়।
- কথা বললে ও মুখ খুললে কষ্ট অনুভব হয়।
- অনেক সময় সাদা ও হলুদ বর্ণ ধারণ করে।
- ঠোটের কোণে ঘা হলে গরম ঝাল যুক্ত খাবার খেতে পারে না।
- অনেক সময় রক্ত পড়া ও লক্ষ্য করা যায়।
- কখনো কখনো দুর্গন্ধ হয়ে থাকে।
ঠোঁটের কোণে ঘা হলে করণীয়
ঠোঁটের কোণে ঘা হলে যেসব কাজ করতে হবে তা হলোঃ
- ঠোঁট সব সময় শুকনো রাখা অর্থাৎ বারবার জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
- খুব বেশি ঠান্ডা বা গরম জায়গা থেকে দূরে থাকতে হবে।
- খুব গরম, ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে।
- ঠোঁট আর্দ্র রাখতে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে হবে।
- ডাক্তারের পরামর্শে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সাপ্লিমেন্ট খাওয়া যেতে পারে।
- ফাংগাল ইনফেকশন হলে এন্টি ফাংগাল ক্রিম ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে।
ঠোঁটের কোণে ঘা ভালো করার ঘরোয়া উপায়
ঠোঁটের কোনে ঘা ভালো করতে কিছু ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করা যেতে পারে। যে উপাদান
গুলো আমাদের ঘরে থেকে থাকে। শুধু এর সঠিক ব্যবহারটা জানতে হবে। চলুন তাহলে জেনে
নেওয়া যাক যেসব ঘরোয়া উপায়ে খুব সহজে ঠোঁটের কোণে ঘা ভালো করা যেতে পারে।
- মধু তে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। মধু দিনে ২-৩ বার ঠোঁটের কোনে লাগালে এটি ভালো করতে অনেক ভাল কাজ করবে।
- তুলসী পাতা পানিতে ১০ মিনিট জাল করে সেই পানি দিয়ে দিনে কয়েকবার ঠোঁটের কোণে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।
- নারিকেল তেল ঠোঁটের কোণ নরম করতে ও সংক্রম সারাতে লাগানো যেতে পারে।
- বিশুদ্ধ ঘি ঠোঁটের কোনে লাগালে ঘা দ্রুত সাড়ে।
- দিনে কয়েকবার এলোভেরা জেল ঠোঁটের কোণে লাগালে ঠান্ডা হবে জ্বালা ভাব কমে যাবে ও ঘা দ্রুত ভালো করে দিবে।
- কুসুম গরম পানির সাথে লবণ মিক্স করে দিনে কয়েকবার লাগানো যেতে পারে।
কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত
ঠোঁটের ঘা সাধারণত গুরুতর হয় না। তবে কিছু কিছু লক্ষণ আছে যা দেখা দিলে খুব
তাড়াতাড়ি ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। যে সমস্যাগুলো দেখা দিলে ডাক্তারের
পরামর্শ নেওয়া উচিত সেগুলো হলঃ
- সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে ঘা না সারলে।
- ঘায়ে পুজ দেখা দিলে।
- তীব্র ব্যথা ও জ্বর হলে।
- বারবার একই সমস্যা দেখা দিলে।
ঠোঁটের কোণে ঘা প্রতিরোধের উপায়
ঠোঁটের কোণে ভাব প্রতিরোধের কিছু উপায় রয়েছে। ঠোঁটের কোণে ঘা প্রতিরোধের
উপায়গুলো হলোঃ
- সর্বদা সুষম খাবার গ্রহণ করা।
- পর্যাপ্ত পানি পান করা।
- ঠোঁট পরিষ্কার রাখা।
- বারবার ঠোঁট ভেজানো থেকে বিরত থাকা।
- ধূমপান, তামাক, পান, জর্দা সেবন থেকে বিরত থাকা।
- ঠোঁট আর্দ্র রাখা।
- ভেজাল বা মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রসাধনী ঠোঁটে ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।
- ত্বকে এলার্জি আছে এমন সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।
FAQ: বহু জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ ঠোঁটের কোণে ঘা হয় কোন ভিটামিনের অভাবে?
উত্তরঃ ঠোঁটের কোণে ঘা হয় সাধারণত ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অভাব। ভিটামিন বি২,
বি৩, বি৬ ও বি১২ এর ঘাটতির কারণে ঠোঁটের ঘা বেশি হয়ে থাকে।
প্রশ্নঃ ঠোঁটের কোণে ঘা হলে কোন খাবারগুলো খাওয়া প্রয়োজন?
উত্তরঃ ঠোঁটের কোণের ঘা হলে সাধারণত ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যুক্ত খাবার গুলো
খাওয়া প্রয়োজন। যেমন মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, কলা, সবুজ শাকসবজি, ডাল প্রভৃতি।
প্রশ্নঃ ঠোঁটের কোণে ঘা কি শুধু ভিটামিনের অভাবে হয়ে থাকে?
উত্তরঃ না, ঠোঁটের কোণে ঘা শুধু ভিটামিনের অভাবে হয়ে থাকে না। অনেক সময় ফাংগাল
বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, আয়রনের অভাব, ডায়াবেটিস, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম
থাকলেও ঠোঁটের কোণে ঘা হতে পারে।
প্রশ্নঃ ঠোঁটের কোণে ঘা কতদিনে ভালো হয়?
উত্তরঃ ঠোঁটের কোণে ঘা সাধারণত সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে আরোগ্যে লাভের দিকে যায়।
তবে সংক্রমণ বেশি হলে একটু বেশি সময় লাগতে পারে।
প্রশ্নঃ ঠোঁটের কোণে ঘা হলে কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরী?
উত্তরঃ ঠোঁটের কোণে ঘা যদি ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ভালো না হয়, তীব্র ব্যথা ও
জ্বর হওয়া, পুজ বের হলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরী।
শেষ কথাঃ ঠোঁটের কোণে ঘা হয় কোন ভিটামিনের অভাবে
এতক্ষণ ধরে আজকের এই আর্টিকেলে ঠোঁটের কোণে ঘা হয় কোন ভিটামিনের অভাবে ঠোঁটের কোণে ঘা হওয়ার লক্ষণ প্রতিরোধ ও এর ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। ঠোঁটের কোণে ঘা সাধারনত ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অভাবে হয়ে থাকে। তাই আমাদের সর্বদা ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যুক্ত খাবার গুলো খাওয়া জরুরী।
পরিশেষে এটাই বলব যে ঠোঁটের কোণের ঘা কে অবহেলা না করে সময় মত ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ ঠোঁট যদি সুস্থ থাকে তাহলে হাসিটাও অনেক সুস্থ ও সুন্দর হবে। এতক্ষন মনোযোগ সহকারে আমার এই আর্টিকেল পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আজকের মত এখানে শেষ করছি সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। খোদা হাফেজ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url